মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের অভিযোগ, বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলাটি দায়ের করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর দুই অঙ্কের নতুন শুল্ক আরোপ করে। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের আগের অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন এ শুল্ক কার্যকর করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্কের মাধ্যমে আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।
মামলাকারী ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক ও ওরেগনও রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল বা গভর্নর ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই দাবি করেন, বিদেশি দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাব দিতেই আইনসম্মতভাবে এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তার ভাষ্য, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ট্রাম্পের দাবি, উচ্চ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। সে লক্ষ্যেই দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন। তার যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, আইইইপিএ আইনের আওতায় এ ধরনের ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। ওই রায়ের পর ইতোমধ্যে শুল্ক পরিশোধ করা আমদানিকারকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করতে হয় ট্রাম্প প্রশাসনকে।
পরবর্তীতে রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হলেও সেটির মেয়াদ ২৪ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হয়। এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর করা হয়। এই আইন অন্য দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, আগের দুটি মামলার মতো এবারও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আদালত যেসব শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, সেগুলো নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের ব্যাপক শুল্ক বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক শ্রমের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.