হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারের পাশে নতুন ইসরায়েলি বসতি, উদ্বেগ জাতিসংঘের

এবার হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করা হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

আল জাজিরার বরাতে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারের পাশেই নতুন এই বসতি গড়ে তুলেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলার সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা বা সুরক্ষা পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে পূর্ব জেরুজালেম ও রামাল্লাহর আশপাশে চলাচলকারী ফিলিস্তিনিদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

অন্যদিকে হেবরনের দক্ষিণে আল-মুখতার গোলচত্বরে অভিযান চালিয়ে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ছাড়া নাবলুস-রামাল্লাহ সড়ক থেকে এক ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা। বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বের তুকু এবং পশ্চিমের দোহা এলাকাতেও পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

গুতেরেসের মতে, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন ও বিদ্যমান বসতিগুলোকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত, টেকসই ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.