দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মেধা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগান। অতীতের লুটপাট ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
রোববার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এ কর্মশালায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এটি আমার তথ্য নয়, বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তথ্য। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। যা বর্তমান সময়ের দুই-তিনটি বাজেটের সমান।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘খুলনায় পৌঁনে চার কিলোমিটার রাস্তা করতে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে ‘মহারাজ’ নামক এক ব্যক্তির শাসনামলে এলজিইডি বিভাগে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ কেবল কাগজে-কলমে দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তখন দেশের মানুষ এমন এক সময় অতিক্রম করেছে, যখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।’
আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখতে হয়। অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সততা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, নিজের দলের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে, তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো আইনজীবীদের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠান শেষে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরকার যাচাই-বাছাই করছে। জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার সংবিধান অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.