২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে নিজেকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে ফাইনালে লিওনেল মেসির সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। তবে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক পুরো সময়ই ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। গোলের দেখা না পাওয়ায় এমবাপ্পেকে আর ছুঁতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি, অর্থাৎ গোল্ডেন বুট, নিজের করে নেন ফরাসি তারকা।
এই অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের বিরল কীর্তি এখন তার দখলে। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই সাফল্য আরও বড় পরিসরে পুনরাবৃত্তি করলেন ফ্রান্স অধিনায়ক।
এবারের আসরে আট ম্যাচে ১০টি গোল করেছেন এমবাপ্পে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য চারটি গোলও তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে মেসি টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে। অর্থাৎ অ্যাসিস্টে দুজন সমান থাকলেও গোলসংখ্যায় এমবাপ্পের থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুট হাতছাড়া হয় আর্জেন্টাইন মহাতারকার।
শুধু গোল্ডেন বুট নয়, এক আসরে দুই অঙ্কের গোল করার কীর্তিও গড়েছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ বিশ্বকাপে চার গোল এবং ২০২২ সালে আট গোল করার পর এবার ১০ গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে এক আসরে অন্তত ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই কীর্তিতে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোল করা জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারের পাশে। তালিকায় তাদের ওপরে রয়েছেন ১৯৫৪ সালে ১১ গোল করা হাঙ্গেরির সান্দর কোচিশ এবং ১৯৫৮ সালে ১৩ গোল করে এখনো এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ধরে রাখা ফ্রান্সের জুস্ত ফোঁতেন।
বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন শীর্ষে এমবাপ্পে। চারটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টি। মেসির সংগ্রহ ২১ গোল, যা এসেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪ ম্যাচ খেলে। বিপরীতে মাত্র ২২ ম্যাচেই ২২ গোল করে অবিশ্বাস্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এমবাপ্পে। গোল করার এই ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলস্কোরার হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.