কিয়েভকে লক্ষ্য করে যুদ্ধের শুরু থেকে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর এটিই কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, রাজধানীর অন্তত ছয়টি জেলায় হামলার প্রভাব পড়েছে।
হামলার ফলে আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস এবং বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়। জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা সভিয়াতোশিনস্কি জেলার একটি জ্বলন্ত বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করেন। শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায় তিনতলা একটি ভবনেও আগুন লাগে, সেখান থেকেও বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি ও দনিপ্রো জেলাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিহা এই হামলাকে ‘ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া রাতভর ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে দেশটি বর্তমানে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে রয়েছে, ফলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর বাইরে দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রুশ ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলায় ট্রেনটির চালক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ক্রিমিয়ায় জ্বালানি ও রসদ সরবরাহ ব্যাহত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি বা বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.