রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ২০২২ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাসে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত জাতিসংঘের ইউক্রেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের (এইচআরএমএমইউ) প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে অন্তত ২৯৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি এবং ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এইচআরএমএমইউ প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, জুনের পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দনিপ্রো, ওডেসা ও রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ভবনে রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণেই প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এ কারণে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কিয়েভ।
অন্যদিকে, যুদ্ধের সামনের সারির কাছাকাছি এলাকাগুলোতে স্বল্পপাল্লার ড্রোন হামলাও বেসামরিক মানুষের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এসব ড্রোন হামলাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
ড্যানিয়েল বেল বলেন, সামনের সারির কাছাকাছি বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। খাবার কিনতে যাওয়া, কুকুর হাঁটানো, সাইকেল চালানো, বাড়ির আঙিনায় কাজ করা কিংবা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও তারা ড্রোন হামলার আতঙ্কে থাকছেন।
এদিকে জুলাই মাসের প্রথমার্ধেও হামলার তীব্রতা কমেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১ হাজার ৯০৪ জন আহত হয়েছেন।
গত ২ জুলাই রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্যও ছিলেন। তাদের একজন ২৩ বছর বয়সী নিকিতা, যিনি শৈশবে ক্যানসারকে পরাজিত করেছিলেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিয়ের কথা ছিল।
পরিবারটির ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল্লা মেলনিচুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, নিকিতার সামনে ছিল একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ, অনেক স্বপ্ন এবং নতুন জীবন। কিন্তু যুদ্ধ সেই সবকিছুই কেড়ে নিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.