সরকার বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, বুধবার সকালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুই লাখ চারা রোপণ করেছেন।
সরকারপ্রধান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ যেন গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক। শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রীয় সেবা পাবে। এ জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সুবিধা ও সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ পরিশোধের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য রাষ্ট্রগঠন এবং প্রতিটি খাতের মানুষের জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া। বিভিন্ন ধরনের সেবাকে ধাপে ধাপে একটি ইউনিভার্সেল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে সব ধরনের সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র ও জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার লাখ নয়, কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.