সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং অপতথ্য প্রতিরোধের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

তথ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘অক্সিজেন’-এর সাথে তুলনা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের পাশে থাকাই সরকারের জন্য একটি ‘এসিড টেস্ট’। দুর্যোগের এই সময়ে সরকারি তৎপরতার সঠিক চিত্র তুলে ধরে জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে এবং প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সকল জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের (ডিআইও) সাথে বন্যা কবলিত এলাকায় করণীয় সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ নসময় দেশের সব জেলা তথ্য কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাদের মতামত নেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এক ধরনের অক্সিজেনের মতো। বাতাস দূষিত হলে বা বাতাস না থাকলে যেমন জীবন সংকটাপন্ন হয়, তেমনি অপতথ্য বা ভুল তথ্য সমাজে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। এই প্রবাহ যাতে কলুষিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রতিদিন যদি আমরা অন্তত ২০টি ভুল তথ্য বা গুজবকে চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করতে পারি, সেই হিসাব জাতিকে জানাতে পারি, তবেই জনগণ সচেতন হবে এবং মন্ত্রণালয়ের কাজের সার্থকতা আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন তথ্যের উৎস কেবল প্রিন্ট বা সম্প্রচার মাধ্যম নয়; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই আমাদের সনাতন প্রচার পদ্ধতির গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি (ফুটপ্রিন্ট) নিশ্চিত করতে হবে।’

ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার- এই সাতটি বন্যা কবলিত জেলার তথ্য কর্মকর্তাদের সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের খোঁজ-খবর নেন। তিনি এই সাতটি জেলার তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে অবিলম্বে একটি ‘বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম’ গঠন করার জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের (ডিএমসি) মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। এই টিম ২৪ ঘণ্টা সদর দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেদনে বস্তুনিষ্ঠ ও সংখ্যাভিত্তিক ডেটা বা পরিসংখ্যান পাঠাতে হবে। প্লাবিত গ্রাম, পানিবন্দি মানুষ, সাপে কাটার সার্বিক পরিস্থিতি ও ত্রাণ বিতরণের নিখুঁত হিসাব প্রতিদিন পাঠাতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে পাঠানো ডেটা ক্রস-চেক করা হবে।’

দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সাথে সার্বক্ষণিক সংযোগ বজায় রাখতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন দুর্যোগ পরিস্থিতি ও সরকারের ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করা হবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষ’ কাজ করবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজ যেখানে দৃশ্যমান বা অবকাঠামোগত, আমাদের কাজ মূলত ডিজিটাল ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে স্বস্তির মধ্যে রাখা। দুর্যোগের এই কঠিন পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি এসিড টেস্ট।’

ব্রিফিংয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে এবং বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাওয়ায় পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, সাপে কাটা থেকে সচেতনতা এবং ত্রাণ বিতরণে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে জেলা তথ্য অফিস মাঠপর্যায়ে মাইকিং ও সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তথ্যমন্ত্রী প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.