অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত লুটপাট এবং জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহনে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। আমি এ সংসদকে একাধিকবার জানিয়েছি কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং অভিযুক্তদের অনেকের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান কোনোভাবেই থামবে না।
তিনি বলেন, ‘যারা দেশের অর্থ লুট করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি কোনো আপস করবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িত কারও সঙ্গে এই সরকার আপস করবে না এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বড় ঋণখেলাপি এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত, প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকার ইতোমধ্যে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং যারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অপর এক সম্পূরক প্রশ্নে এনসিপির সংসদ সদস্য আতীকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানান।
তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে বিএনপির কোনো লোকেরই কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নিয়োগমুক্ত রাখার বিষয়ে সরকার সচেতন নীতি গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দিচ্ছি না। এটি বিএনপি সরকারের একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। এমন কোনো ইচ্ছা বা সুযোগ কোনোটিই নেই। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত নানা সমস্যার কারণে কয়েকটি ব্যাংক পরিচালনা ও সুশাসন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকার ব্যাপক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ চলছে। মূল্যায়ন শেষ হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.