চট্টগ্রামসহ দেশের চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার আভাস

টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বুধবার (৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর অধীনস্থ এ সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রায় তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে।

আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এ বৃষ্টি চলতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে গেছে। বৃষ্টিতে কিছু নদীর পানি আরও বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে এসব বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসমূহ কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

একইসঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নদীসমূহের কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর এবং কুড়িগ্রামে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা তিন দিন থাকতে পারে। এর পর থেকে, অর্থাৎ শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার, ধরলাসহ কয়েকটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.