বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) সফলভাবে ‘এক্সপ্লোরিং আইপিওস: রেডিনেস, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রোডম্যাপ টু লিস্টিং’ শীর্ষক একটি জ্ঞানবিনিময় সভার আয়োজন করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, বাংলাদেশে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও সম্পর্কিত সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে নিয়ন্ত্রক, স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা, বাজার মধ্যস্থতাকারী, শিল্প নেতা এবং সম্ভাব্য ইস্যুকারীদের একত্রিত করে ঢাকার ডিএসই টাওয়ারের ডিএসই মাল্টিপারপাস হলে “আইপিও অন্বেষণ: প্রস্তুতি, চ্যালেঞ্জ এবং তালিকাভুক্তির রোডম্যাপ” শিরোনামে একটি নলেজ-শেয়ারিং সেশন সফলভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ বা বিএপিএলসি। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এবং পাবলিক লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আরও কোম্পানিকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহিত করতে বিএপিএলসির অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সেশনের আয়োজন করা হয়। সেশনটি বিশেষ করে সেইসব কোম্পানি—বিশেষ করে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএর সদস্যদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যারা ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহ্যগত ব্যাংক ঋণের একটি টেকসই এবং কৌশলগত বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজার-ভিত্তিক অর্থায়ন অন্বেষণ করতে আগ্রহী।
টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএমবিএর সেক্রেটারি জেনারেল সুমিত পোদ্দার, যিনি আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া, আইপিওর সুবিধা, কীভাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়া যায় তার একটি রূপরেখা প্রদান করেন এবং ডিএসইর জেনারেল ম্যানেজার এবং সিআরও (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শফিকুর ইসলাম ভূঁইয়া, এফসিএস, যিনি সম্ভাব্য আইপিও আবেদনকারীদের জন্য নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষণ এবং কমপ্লায়েন্স প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, আর সেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি বা ডিএসইর চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম, বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ডিবএএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, যারা পুঁজিবাজারে ব্যবসার অংশগ্রহণ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপর তাদের মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেন।
বক্তারা পুঁজিবাজারে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর জন্য কর্পোরেট গভর্নেন্স, স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক কমপ্লায়েন্স, আর্থিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ইন্টারেক্টিভ আলোচনা সেশনটি অংশগ্রহণকারীদের নিয়ন্ত্রক এবং বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে সক্ষম করে, যা আইপিও প্রস্তুতি এবং তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত ব্যবহারিক উদ্বেগগুলো সমাধান করে।
সমাপনী বক্তব্যে বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বিশিষ্ট অতিথি, বক্তা এবং অংশগ্রহণকারীদের তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজারের আস্থা শক্তিশালীকরণ এবং পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানির প্রবেশ সহজতর করার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করার জন্য বিএপিএলসির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইভেন্টটি একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর সেশনের মাধ্যমে শেষ হয়, যা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ হিসেবে পুঁজিবাজার অর্থায়ন অন্বেষণে কর্পোরেট নেতা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের তীব্র আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.