কাস্টমসের অনলাইন নিলামে ৩৭ লট পণ্য

চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসবিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কন্টেইনার অপসারণে ৩৭ লট পণ্য নিয়ে বিশেষ অনলাইন নিলামের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগ্রহীরা দরপত্র জমা দিতে পারবেন। এর আগে গত ২ জুন সকাল ৯টা থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছিল।

কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, নিলামে তোলা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, হার্ড উড ক্র্যাফট, ভেজিটেবল কাটার, কি-রিং, মেটাল হ্যাঙ্গার, ব্রিকস, নাইফ, রাবার চিপস, ইউপিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ওয়াটার পাইপ, সুইমিং পুল পাম্প, ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল, রিলিফ গুডস, কোটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড, বিয়ারিং, সার্জিক্যাল মাস্ক ও চেস্ট ফ্রিজারসহ বিভিন্ন পণ্য।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরে জমে থাকা খালাস না করা পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য ও অনলাইন উভয় ধরনের নিলামের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পচনশীল পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করলেও অতীতে তা কার্যকর বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। ফলে অনেক খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ধ্বংস করতে হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য ধ্বংসে অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করেছে। তবে বর্তমানে পচনশীলসহ নিলামযোগ্য পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, “নিলাম কাস্টমসের একটি চলমান কার্যক্রম। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিলাম কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছি। এর মাধ্যমে খালাসবিহীন পণ্য বিক্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩৭ লট পণ্য অনলাইন নিলামে তোলা হয়েছে।”

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে খালাসের পর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে তা গ্রহণ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হলে কাস্টমস নোটিশ দেয়। নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যেও পণ্য গ্রহণ না করলে কিংবা মিথ্যা ঘোষণার কারণে জব্দ হওয়া পণ্য হলে তা নিলামে তোলার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বন্দরে কন্টেনার জট সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ সময় পণ্য পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিত চার্জ আদায় করতে পারে না।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.