পৃথক ৩ টি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার: তিতুমীর

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিন খাতের জন্য পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ, পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি ও কর জালিয়াতি কমিয়ে রাজস্ব আদায়ের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এই সংস্কার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী সংলাপে তিনি এসব কথা জানান।

উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার তিন ধাপের কৌশল—পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠন—অনুসরণ করছে। এ লক্ষ্যে ভোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজস্ব ব্যবস্থার তিনটি টাস্কফোর্সের জন্য মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট মাইলফলক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অতীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্য উপস্থাপনায় যে অসঙ্গতি ছিল, তা দূর করে তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, শুধু রাজস্ব বাড়ালেই হবে না; পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয়ও বাড়াতে হবে। বর্তমানে পরিচালন ব্যয় দ্রুত বাড়লেও মূলধনী ও উন্নয়ন ব্যয় সেই হারে বাড়ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে এমন অনেক প্রকল্প রয়েছে, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এবং একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন, বাস্তবায়ন, তদারকি ও মূল্যায়ন—পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ড্যাশবোর্ডভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্যনীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে নীতিনির্ধারণ ও গবেষণায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

এর আগে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন হবে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্য পূরণের চাপ মাঠপর্যায়ে করদাতাদের হয়রানির কারণ হতে পারে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.