দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ (মূলধনী যন্ত্রপাতি) হিসেবে ঘোষণা এবং বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)।
আজ রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিফট কোনো বিলাসদ্রব্য নয়; বরং এটি একটি অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে লিফটকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ শ্রেণি থেকে সরিয়ে কমার্শিয়াল পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরেও ধারাবাহিকভাবে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক লিফট কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে, যার কারণে বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়া সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে ঘোষণা;
লোড ফ্যাক্টর প্রতি কেজি ৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ;
স্থানীয় উৎপাদনের নামে আমদানিকৃত কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি;
বন্দর পর্যায়ে স্কেলিং, মূল্যায়ন ও ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণ;
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ লিফট আমদানির জন্য শুল্ক ও কর কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার;
শুল্ক ও করের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে নিম্নমানের বা রিকন্ডিশনড (রিকন্ডিশনড) লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা হলে সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও টেকসই লিফট আমদানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে লিফট আমদানির ওপর উচ্চহারে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর আরোপিত থাকায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তা ও আবাসন শিল্পের ওপর। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে আমদানিকৃত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন লিফটের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে বহুতল ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতার ওপর বর্তেছে। ফলে মধ্যবিত্তের জন্য নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন ক্রমশ দূরবর্তী হয়ে যাচ্ছে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ এবং নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে লিফট খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াদুল হক, বেলিয়ার উপদেষ্টা এমদাদ উর রহমান, বেলিয়ার সহ-সভাপতি অসীম সরকার, বেলিয়ার পরিচালক মোহাম্মদ জাকিরুল হক এবং বেলিয়ার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো. ইউসুফ নবী।
বেলিয়ার নেতৃবৃন্দ বলেন, লিফটের ওপর অযৌক্তিক শুল্ক আরোপের ফলে বহুতল ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসনের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের ও রিকন্ডিশনড লিফট ব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার লিফট খাতের যৌক্তিক দাবিসমূহ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যা দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.