বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে জোর গোলাম মোয়াজ্জেমের

দেশের জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির (ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা সাধারণত বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ু বা জলবিদ্যুৎকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এখন সময় এসেছে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার। কারণ এটি বড় জমির প্রয়োজন ছাড়াই বাড়ির ছাদ, শিল্পকারখানা, কৃষিখামার কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে স্থাপন করা সম্ভব এবং বিদ্যমান বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।

সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগামীদিনে বড় আকারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পকারখানার রুফটপ সোলার, কৃষিতে অ্যাগ্রিভোল্টাইক, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সোলার হোম সিস্টেমই বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীতে ‘ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি: দ্য ফিউচার সোলার সলিউশনস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং ডিআরইপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ডিআরইপি সমন্বয়ক বলেন, বর্তমানে দেশে নেট মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলারের সক্ষমতা ২১৩ মেগাওয়াট। এর বাইরে নন-নেট মিটারিং রুফটপ সোলার ৯৪ মেগাওয়াট, সোলার হোম সিস্টেম ২৬৩ মেগাওয়াট, সৌরচালিত সেচ পাম্প ৬০ মেগাওয়াট, স্ট্রিটলাইট, চার্জিং স্টেশন ও অন্যান্য সৌরব্যবস্থা ১৭ মেগাওয়াট এবং মিনিগ্রিড প্রায় ৬ মেগাওয়াট। সবমিলিয়ে দেশে প্রায় ৬৫৫ মেগাওয়াট বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে উদ্যোক্তারা দ্রুত রুফটপ সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সরকারও স্বীকার করছে যে জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটবে না এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

‘তাই দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। শিল্পে জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কৃষিতে সৌরভিত্তিক সেচ ও মিনিগ্রিড, পরিবহনে বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আবাসিক খাতে বৈদ্যুতিক চুলা ও ব্যাটারি ব্যবহারের প্রসার আগামীদিনের জ্বালানি ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেবে। হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও রুফটপ সোলার ও ব্যাটারির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।’

সমন্বয়ক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ, আইনগত কাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্ম (ডিআরইপি) গঠন করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নীতিগত সহায়তা দেবে।

তিনি আরও বলেন, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশ বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও জেলা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই, নিরাপদ ও স্বল্প ব্যয়ের জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.