নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে সংসদে হৈ চৈ ও উত্তেজনা হয়েছে। তখন বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ওই সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।
রোববার বিকেলে সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য নিয়ে উত্তেজনা হয়। তিনি ২০০৪ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার পরের এক দাওয়াত অনুষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আপনাদেরকে চেনা খুব কঠিন। এই কারনে কঠিন, খন্দকার মোশাররফ সাহেব আছে। ২০০৪ সালে তাহের ভাইসহ এমপি হওয়ার পরে, উনি মন্ত্রী হওয়ার পরে আমাদের সব এমপিদেরকে দাওয়াত দিছেন বউ নিয়া। আমি বউ নিয়া যাই নাই, কয়েকজন বউ নিয়া যায় নাই। তাহের ভাই বউ নিয়া গেছে। ঢুকার পর দেখি একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বললাম যে, তাহের ভাই ভাবি কই। উনি বলেন, এই যে। আমি বলি আপনে যে বদলায়া আনেন নাই এইটা কেমনে বুঝমু।
এই সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর দুইজন নারী সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রশংসা করেন। কিন্তু তাদের পোশাকের কারণে তাদের চিহ্নিত করতে পারছেন না, এমন বিষয় উল্লেখ করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমাদের হাউজেও আমাদের বোনেরা এসেছে এমপি হইয়া। আপনি অভিনন্দন জানাইছেন, আমিও অভিনন্দন জানাইতে চাই, সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনছি। আগামী দিনে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যত আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম নাতো কারা আপনারা। ভেতরে কে? আপনারা এইদিকে দেখতে পারেন, আমরা এইদিকে দেখলে কী আছে বুঝবো না, এটা ঠিক নাতো।
এই কথার পরপরই ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় সদস্য প্লিজ পারসোনাল ফ্রিডম নিয়ে কথা বলা উচিত না। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং তখন হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়।
ডেপুটি স্পিকার তাদেরকে বসার অনুরোধ করেন। সে সময় হক বারংবার তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি বরং অতীতের একটি ঘটনার গল্প বলেছেন বলে দাবি করতে থাকেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সবাইকে বসার অনুরোধ করেন আবারো। এই সময় হককে লক্ষ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনি পারসোনাল ফ্রিডম নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন এই অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করা হলো। কেউ যাতে ভবিষ্যতে পারসোনাল ফ্রিডম নিয়ে কথা না বলেন, সেজন্য সতর্ক করেন ডেপুটি স্পিকার কামাল।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.