স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ততা জোরদারে আইক্যাব পাবলিক ইন্টারেস্ট ফোরামের যাত্রা শুরু

দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব) আইক্যাব পাবলিক ইন্টারেস্ট ফোরাম (পিআইএফ) চালু করেছে, যা অ্যাকাউন্ট্যান্সি পেশা, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং, সাসটেইনেবিলিটি, পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট এবং বৃহত্তর জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রভাবিতকারী বিষয়গুলোতে স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ততা জোরদার এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বুধবার (১০ জুন) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই উদ্যোগ জনস্বার্থে কাজ করা এবং বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং ও ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন উন্নয়নে আইক্যাবের চলমান অঙ্গীকারের প্রতিফলন। দেশের প্রধান পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইক্যাব মনে করে, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাঠামোবদ্ধ সংলাপ জাতীয় ও বৈশ্বিক উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

১৫ সদস্যের ফোরামটি রোববার, ৭ জুন ২০২৬, ঢাকার সিএ ভবনে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত করে, যা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে আইক্যাবের সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

ফোরামের সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীরা রয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা আইক্যাবের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ফোরামটি প্রতিষ্ঠানটির জনস্বার্থ ও স্ব-নিয়ন্ত্রক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে, অ্যাকাউন্ট্যান্সি পেশার প্রতি আস্থা বাড়াবে এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা পূরণে আইক্যাবকে আরও কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যাবে। সদস্যরা আরও বলেন, শক্তিশালী সুশাসন এবং বিশ্বাসযোগ্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফোরাম প্রতিষ্ঠাকে আইক্যাবের রিফর্ম স্ট্র্যাটেজি ২০২৫–২০৩০-এর আওতায় অর্থবহ সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়েছে। সদস্যরা বলেন, এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ততা ব্যবস্থা মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি, নীতিগত সংলাপ জোরদার এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জাতীয় উন্নয়ন ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে।

সমষ্টিগতভাবে ফোরামটি বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে গঠিত, যা গঠনমূলক সংলাপ, তথ্যভিত্তিক সুপারিশ এবং শক্তিশালী সুশাসন, জবাবদিহিতা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনস্বার্থ অগ্রসরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফোরামের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান; ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদ; অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট রুপালী চৌধুরী; সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান; সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন; পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার; পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ; ফিকির নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবির; বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার তানভির হাবিব রহমান সিপিএ এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও বাংলাদেশের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এবং প্রিন্ট মিডিয়ার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও ফোরামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইক্যাব প্রেসিডেন্ট এনকেএ মোবিন এফসিএ বলেন, “পাবলিক ইন্টারেস্ট ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে তথ্যভিত্তিক সংলাপ ও সহযোগিতার একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এটি আইক্যাবকে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি নিতে, জাতীয় নীতিগত আলোচনায় অর্থবহ অবদান রাখতে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।” সদস্যদের স্বাগত জানানোর পর তিনি আইক্যাবের বর্তমান ভূমিকা ও দায়িত্ব, অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা দেন।

আইক্যাবের রিফর্ম এজেন্ডার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করেন রিফর্ম স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া জান্নাত এফসিএ। তিনি বলেন, রিফর্ম স্ট্র্যাটেজি ২০২৫–২০৩০-এর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জাতীয় অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা, আইক্যাবের থট লিডারশিপ ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যাত্রাকে সহায়তা করতে নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে আরও কার্যকর অবদান রাখা।

এ সভায় আইক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান এফসিএ এবং কাউন্সিল মেম্বার সাব্বির আহমেদ এফসিএও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.