১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতছে ৮৬ রানে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছে ২০০৫ সালে। মানে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালের সেই জয়টি এসেছিল কার্ডিফে। মানে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়।
এই জয়ে নাহিদ রানা বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ৪টি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮৬ রানের পর বল হাতে ২ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক। শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাত অবশ্য হানেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম বলেই অস্ট্রেলিয়ার স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙেছে অসি ওপেনার ম্যাথু স্কটের স্ট্যাম্প। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন স্কট। ওয়ানডের বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ক্রিজে থিতু হওয়ার আগে ফের আঘাত বাংলাদেশের। এবার দৃশ্যপটে মুস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ লেগ বিফোর করেন মার্নাস লাবুশেনকে। আম্পায়ার অবশ্য প্রথমে সাড়া দেন। রিভিউ নিয়ে উইকেট আদায় করে স্বাগতিকরা। ২ রানে ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
অসি অধিনায়ক জস ইংলিশকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন নাহিদ রানা। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানো অসিদের ধরেন কুপার কনোলি। ৫০ বলে ৩৫ করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা কনোলিকে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন। তাকে বোল্ড করে বল হাতে এনে দেন ব্রেক থ্রু। নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে রানা সাজঘরে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারিকে। এবারও উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে আরেকবার জ্বলে ওঠেন মোসাদ্দেক। ম্যাট রেনশোকে লেগবিফোর করেন তিনি। নাহিদের বলে লিয়াম স্কটের ক্যাচ নেন তাওহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়া হারায় সপ্তম উইকেট। হাভিয়ের বার্টলেটকেও টিকতে দেননি গতিতারকা নাহিদ।
নবম ব্যাটার হিসেবে নাথান এলিসকে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ। সেটিই হয়ে রয় ম্যাচের শেষ উইকেট। ব্যাট হাতে দিনের শুরুটা হতাশা জাগানিয়া হলেও, দ্রুতই নিজেদের সামলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ওপেনিং ব্যর্থ হবে, এ আর নতুন কী! ব্যতিক্রম ঘটেনি আজও। দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন সাইফ হাসান। নাথান এলিসের বলে মার্নাস লাবুশেনের তালুবন্দি হয়ে ৫ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন সাইফ। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
এরপর হাল ধরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে আসে ৯৬ রান। ৪৪ বলে ৫৪ রান করে এলিসের বলে মিড-অফে হাভিয়ের বারলেটের হাতে ক্যাচ দেন তামিম। তামিম ফেরার পর উইকেটে আসেন লিটন দাস। তিনিও বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না উইকেটে। রেনশোর বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ৯ বলে মাত্র ৭ রান করেই ফেরেন এই ব্যাটার। শান্ত বিদায় নেন ৮৬ বলে ৬৭ রানে। ম্যাট রেনশোর বলে লং অফে কুপার কনোলির হাতে ধরা পড়েন তিনি।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ লিয়াম স্কটের বলে লেগবিফোর হন ১২ বলে ৩ রানে। ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে যাওয়া স্বাগতিকদের টেনে তোলেন মোসাদ্দেক। চার বছর পর দলে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস উপহার দিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মোসাদ্দেককে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয় ও তাসকিন আহমেদ। ৫১ বলে ৩১ রান করেন হৃদয়। ১৬ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ রান আসে তাসকিনের ব্যাট থেকে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.