নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫তম আসরে প্রবাসজীবন, বাঙালি পরিচয় ও আবেগিক সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে আয়োজিত এক বিতর্ক অনুষ্ঠান ছিল এবারের মেলার অন্যতম আকর্ষণ। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বিতর্কে অংশ নেন সাংবাদিক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদেরা।
বিতর্কের বিষয় ছিল— “প্রবাসজীবন বাঙালিকে দিয়েছে বাণিজ্যিকতা; কেড়ে নিয়েছে আন্তরিকতা”।
বিষয়ের বিপক্ষে বক্তব্য দেন ব্যবসাবিষয়ক সাংবাদিক বাবু কামরুজ্জামান, ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক ব্যুরোর পলিসি অ্যাডভাইজার নাজনীন আহমেদ এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কর্টল্যান্ডের অর্থনীতির অধ্যাপক বিরূপাক্ষ পাল। তাঁরা বলেন, প্রবাসজীবনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও প্রবাসী বাঙালিরা এখনো ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধন ধরে রেখেছেন।
অন্যদিকে বিষয়ের পক্ষে বক্তব্য দেন সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয়, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. শামীম রেজা এবং জনস হপকিনস মেডিসিনের গবেষক-চিকিৎসক মোহাম্মদ নকিবউদ্দিন। তাঁদের মতে, প্রবাসজীবনের প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক বাস্তবতায় বাঙালির ঐতিহ্যগত আবেগিক সম্পর্ক ও সামাজিক সংযোগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার। তিনি বলেন, প্রবাসী সমাজে এমন মুক্ত বুদ্ধিবিনিময় সাংস্কৃতিক চর্চা ও আত্মপরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করে।
শ্রোতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। আয়োজকদের মতে, এবারের বইমেলায় এটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও উপভোগ্য আয়োজনগুলোর একটি।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১৯৯২ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। ঢাকার বাইরে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ঘিরে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে পরিচিত। এবারের চারদিনব্যাপী মেলায় থাকছে সেমিনার, বই প্রকাশনা, সাহিত্য আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.