চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩%, মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আইএমএফের

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (জুলাই ২০২৬ আপডেট)’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। আইএমএফ জানায়, গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় সামগ্রিক চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও চাহিদা বৃদ্ধি যুদ্ধজনিত নেতিবাচক প্রভাবের একটি অংশ পুষিয়ে দিচ্ছে।

আইএমএফের মতে, যুদ্ধের প্রভাব সব দেশের ক্ষেত্রে সমান নয়। কোনো দেশের অর্থনীতি কতটা সংঘাতের প্রভাবে রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে তাদের অবস্থান কেমন—তার ওপর অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ভর করছে। সংঘাতের বাইরে থাকা জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো তুলনামূলকভাবে লাভবান হলেও, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিগুলোও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সুবিধা পাচ্ছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে সীমিত অংশগ্রহণকারী দেশগুলো অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হিসাব কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়—২০২৪ সালের শুরু থেকে চলা মূল্যস্ফীতি কমার ধারায় সাময়িক বিরতি এসেছে।

আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা আরও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে আশাবাদের দিকও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হলে, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়লে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার হলে এবং বিভিন্ন দেশে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়েও ভালো হতে পারে।

দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশে কিছুটা কমে আসতে পারে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.