গঙ্গা ও অন্য নদীগুলোর পানির হিস্যা দিতে হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু ফারাক্কা বাঁধ, গঙ্গা, তিস্তা নয়, উজান থেকে আসা নদীগুলো আমাদের জীবন, আমাদের জীবিকা। আজকে এই নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আমরা চাই। আমরা চাই আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের হিস্যাগুলো আদায় করবে।’

শনিবার ( ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। বিকেলে ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সভাটি হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ফারাক্কা লংমার্চ বললেই আমরা বুঝি আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে, আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়; যা একটা জাতিকে সুসংহত করে, ঐক্যকে ধারণ করে সেটাই হচ্ছে ফারাক্কা মার্চ। সে কারণেই “ফারাক্কা” প্রতিবাদের প্রতীকী শব্দে পরিণত হয়েছে।’

১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদি ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। এই চুক্তি নবায়ন হবে কি না—এই প্রশ্ন তুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের মনে রাখতে হবে এটি কোনো দলের, কোনো ব্যক্তির বা কোনো সরকারের জন্য নয়। এটি আমাদের জাতির, দেশের এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্ন। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঙ্গা ও অন্য নদীগুলোর পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ফারাক্কা চুক্তি কার্যকর করা এবং আমাদের পানির স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সময়োচিতভাবে সঠিক সময়ে পদ্মা ব্যারাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আসলে এই ব্যারাজ করলেই আমরা একদিকে যেমন তাদের (ভারতের) ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারব, অন্যদিকে আমাদের যে বিশাল এলাকাজুড়ে (দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে) মরুকরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, লবণাক্ততার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোকে আমরা অ্যাড্রেস (চিহ্নিত) করার সুযোগ পাব।’

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আলোচনা সভায় বলেন, তিনি ছিলেন সেই নেতা, যিনি ব্রিটিশ ভারতের সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন এবং তখনো সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই চালাতেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একইভাবে সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরও তিনি তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি সর্বদা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন, তাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে আন্দোলন, সংগ্রাম এবং রাজনীতি পরিচালনা করতেন।

আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের সর্বশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রমাণ করেছেন, এ দেশের মানুষের কল্যাণ ছাড়া তাঁর জীবনের আর কোনো ব্রত ছিল না। তিনি অনুমান করতে পেরেছিলেন পানিসম্পদ যদি ভাটির দেশে সঠিকভাবে বণ্টনের চুক্তি না হয়, তার পরিণতি কী হতে পারে। তিনি এটাও অনুধাবন করেছিলেন চুক্তি থাকলেও পানিসম্পদ বণ্টন নিশ্চিত হবে কি হবে না, তা নির্ভর করে দুই দেশের সঠিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের এই সরকারের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যতের যে সার্থকতা, তার সবচেয়ে বড় কারণ আমরা মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষের মার্কাকে ধারণ করি।’

ধানের শীষ জানে ফারাক্কার সমাধান কেমন করে করতে হবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধানের শীষ যেমন করে এবারের নির্বাচনের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়কে পেয়েছে, দেশি-বিদেশি সব শক্তির সমর্থনকে পেয়েছে, ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় ফারাক্কা সমস্যার সমাধান করবে।

সভাপতির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আগামী ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বলব এই চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করা হোক এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের দেওয়া হোক। যদি প্রয়োজন হয়, আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাব, জাতিসংঘে যাব; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য পানির অধিকার আমরা আদায় করবই।’

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.