পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৭ পুণ্যার্থী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের সামনে ‘বিদেশীনি’ নামের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এতে দগ্ধ হয়ে অন্তত সাত জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরের অবস্থান তারাপীঠ শহরে। শ্রাবণ মাসের বিশেষ পূজা উপলক্ষে তারাপীঠে গিয়েছিলেন নিহত এই পুণ্যার্থীরা। সোমবার সকালে হোটেলের এক তলায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থান হোটেল বিদেশিনীর। পাঁচতলা ওই হোটেল ভবনের নিচে সোমবার ভোরের দিকে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। আগুন লাগার পর দ্রুত তা হোটেলের বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। অতিথিদের অধিকাংশই সেই সময় ঘুমোচ্ছিলেন এবং তাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল।

আগুনের ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে গিয়েছিল। অতিথি এবং হোটেলের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ভালো করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ঘরের মধ্যেই আটকে পড়েন অনেকে। এতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

হোটেলটি থানার সামনে হওয়ায় পুলিশ পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশও সেখানে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলও। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

কিন্তু হোটেলের নিচতলার বিস্তীর্ণ অংশই পুড়ে গিয়েছিল। আবাসিকদের কেউ কেউ আগুনে দগ্ধ হয়েছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন ধোঁয়ায়। জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুণ্যার্থীদের আতঙ্ক কাটছে না।

কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল? হোটেল সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি বা মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার হঠাৎ ফেটে গিয়ে সেখানে আগুন ধরে যায়। ওই হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, “আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন; কিন্তু ততক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যেসব জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায় এবং বাড়তে থাকে। দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। আতঙ্কে ঘর থেকে অতিথিরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। বাইরে বের হয়ে তাদের অনেকেই আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পেছন দিক দিয়ে বের হওয়ার দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তারা রিসেপশন দিয়ে বের হতে শুরু করেন। সে সময়ে অনেকে দগ্ধ হন।”

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.