চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।
বাদীর এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিকটিমকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে ভিকটিমকে ঢাকার জাতীয় হৃদয়রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীর বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করায়। ওয়ার্ড বয় শহিদ এসে ভিকটিমকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবু হুরায়রাকে এসে বলে, তার বাবার হার্টে নয়, মাথায় সমস্যা। তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। এখানেসহ ঢাকার কোথাও আইসিইউ খালি নাই। হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ খালি আছে। সেখানে কম টাকায় চিকিৎসা করাতে পারবে। প্রতিদিন মাত্র ১৫ হাজার টাকা লাগবে। ওষুধ কেনার জন্য তারা আবারও টাকা চাইলে আবু হুরায়রার সন্দেহ হয়। তিনি তখন ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে বলেন, তার বাবার চিকিৎসা এ হাসপাতালে করাবেন না। তারা তাকে বোঝান যে, এখানে চিকিৎসা ‘ভালো’। তারপরও আবু হুরায়রা জোর দিলে রিসিপশনে গিয়ে বিল পরিশোধ করে রোগী নিয়ে যেতে বলেন।
রিসিপশনে গিয়ে আবু হুরায়রা দেখেন, ২৭ হাজার টাকা বিল হয়েছে। বিল পরিশোধ ছাড়া তার বাবাকে নিয়ে যেতে পারবে না বলে জানানো হয়।
আবু হুরায়রা তার অভিযোগে বলেছেন, ডা. নিরব হোসেন ও ডা. সিরাজুলকে তিনি বারবার অনুরোধ করেছিলেন। পরে নিরব হোসেনের নেতৃত্বে ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার ও জুনায়েদরা তাকে আটকে রেখে মারধর করে এবং তার বাবার চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়।
মামলার আবেদনে বলা হয়, অনেক কষ্টে ১২ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতালে দেন আবু হুরায়রা। সেদিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা রোগীকে ছেড়ে দেয়। এরপর আবু হুরায়রা তার বাবাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিন্নাত আলী মারা যান।
আবু হুরায়রা লিখেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান চার ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে। তখন তারা চিকিৎসাপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তাকে মেরে ফেলার এবং চোর বানিয়ে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়।
আবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ আবু হুরায়রা আবার সেখানে গেলে তাকে ‘চোর বানিয়ে’ পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তবে পুলিশ আবু হুরায়রার অভিযোগের কপি দেখে তাকে ছেড়ে দেয়। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে আর্জিতে জানিয়েছেন আবু হুরায়রা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.