২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে সেই অর্থে মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ সাত দফা সুপারিশ পেশ করেছে প্রতিবন্ধী নারী নেতৃত্বে পরিচালিত সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস বি-স্ক্যান।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর চেয়ারম্যান শ্রী মো. আবদুর রহমান খান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে বি-স্ক্যান এসব দাবি জানায়।
বি-স্ক্যান তাদের সুপারিশে জানায়, তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে সেই অর্থ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা বর্তমান স্তর থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রের ওপর বাড়তি চাপ ছাড়াই বড় একটি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে।
সংগঠনটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বে কার্যকর থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতায় করছাড়ের সুবিধা পুনরায় বহাল করার কথা বলেছে।
সংগঠনটি বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও ঘোষিত ৫০টি অতি জরুরি সহায়ক উপকরণ অ্যাসিস্টিভ টেকনোলজি আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার ও প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এসব উপকরণে ব্যাপক ছাড় থাকলেও বাংলাদেশে তা এখনো ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে হয়রানি এড়াতে স্পষ্ট বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সুপারিশে বি-স্ক্যান জানিয়েছে, যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ২০০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে, সেখানে ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে শূন্য কোটা বাবদ জরিমানা আদায় করা যেতে পারে। সেই অর্থ দিয়ে একটি বেকার বীমা তহবিল গঠন করে কর্মক্ষম বেকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত মাসিক ৮ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বি-স্ক্যানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনবিআর অতীতেও ৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী নিয়োগে ৩ শতাংশ কর রেয়াত এবং হুইলচেয়ার ও শ্রবণযন্ত্রের ব্যাটারি আমদানিতে সুবিধা প্রদান করেছে; যা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.