সিআইবিতে গ্রাহকের ঋণের ভুল তথ্য দিলে জরিমানা

কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট ইনফরশেন ব্যুরো বা সিআইবিতে গ্রাহকের ঋণের ভুল তথ্য দিলে ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকের তথ্য গোপনের জন্য দায়ী কর্মকর্তাকে ন্যুনতম ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলেও জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরশেন ব্যুরো বিভাগ এ সংক্রান্ত্র প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের ঋণ শৃঙ্খলা সুসংহত করার জন্য সবসময়ে সিআইবির তথ্য সঠিকতা বজায় রাখা ও হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ আবশ্যক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে ও যথাযথভাবে সিআইবি অনলাইন সিস্টেমে তথ্য প্রদান করা না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আগের নির্দেশনা রয়েছে।

সিআইবি তথ্যভান্ডারের উচ্চমান নিশ্চিতকল্পে আগের নির্দেশনার সঙ্গে কিছু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সিআইবির অনলাইন সিস্টেমে গ্রাহকের তথ্য আপলোড করার পর মাসিক বকেয়া ঋণ তথ্যের কোনো অংশ মিথ্যা বা ভুল পরিলক্ষিত হলে এবং তথ্য গোপন প্রমাণিত হলে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দাখিলকারী কর্মকর্তা বা তথ্য গোপনের জন্য দায়ী কর্মকর্তাকে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

জরিমানা আদায়ের পদ্ধতিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে মাসিক ব্যাচ কন্ট্রিবিউশন বা ভুল ফাইলের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে বিলম্ব দিনের সংখ্যা, ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রকৃতি ও মাত্রা অনুযায়ী এবং ঋণতথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গের বিষয় উদ্ঘাটিত হলে জরিমানার কারণ এবং জরিমানার টাকার পরিমাণ উল্লেখপূর্বক ব্যুরো হতে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা দায়ী কর্মকর্তাকে পত্র প্রেরণ করা হবে। জরিমানার টাকা কেন আদায় করা হবে না মর্মে ব্যাখ্যা তলব করা হবে।

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মকর্তার দেয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে জরিমানা আরোপের বিষয়টি জানিয়ে সাত দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার এর মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোনো নোটিশ দেয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিকলন করে তা আদায় করা হবে।

দায়ী কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরশেন ব্যুরো বিভাগকে অবহিত করবে।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

অর্থসূচক/এমএস/এমএস

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
মন্তব্য
Loading...