হামিদ ফেব্রিকসের শেয়ারে কারসাজি!

উচ্চ প্রিমিয়ামে আইপিওতে এসে হতাশ করা হামিদ ফেব্রিকস লিমিটেডের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ হিসাববছরে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৭২ পয়সা লোকসান দেওয়া এই কোম্পানি ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর এই ঘোষণার পর থেকেই পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে শুরু করেছে শেয়ারটি। মাত্র ২ দিনে শেয়ারটির দাম বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। এই ধরনের ঘটনাকে বাজার বিশ্লেষকরা শুধু অস্বাভাবিকই মনে করছে না, এটিকে বাজারের জন্য বিপদজনকও মনে করছেন তারা।

বিধান অনুসারে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে হামিদ ফেব্রিকসকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই’২১-সেপ্টেম্বর’২১) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। কোম্পানিটি তখন চমক জাগানো প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। প্রথম প্রান্তিকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হবে ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সা। কোম্পানির এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আগে থেকেই জানাজানির ঘটনা শেয়ার মূল্য নিয়ে কারসাজির সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। এটি কারসাজির সাথে কোম্পানির উদ্যোক্তাদের যোগসাজশেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটি গত ২৭ অক্টোবর সর্বশেষ হিসাববছরের (২০২০-২১) জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আলোচিত বছরে কোম্পানিটি কোনো মুনাফা করে পারেনি। বরং শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৭২ পয়সা লোকসান দেয়।

লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিন শেয়ারটির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হতে থাকে। করপোরেট ডিক্লারেশনের পরদিন সার্কিটব্রেকার না থাকার সুযোগ নেয় কারসাজিকারীরা। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারটির দাম ১৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩০ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। একদিনে দাম বাড়ে ৬৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। আজ রোববার (৩১ অক্টোবর) ডিএসইতে শেয়ারটির দাম ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। দুইদিনে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৭২ পয়সা লোকসান দেওয়া এবং তার আগের বছরে শেয়ার প্রতি মাত্র ৪২ পয়সা আয়ের এই কোম্পানির শেয়ার মূল্যের এই উল্লম্ফনকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন না বাজার বিশ্লেষকরা। একমাত্র কারসাজির জোরেই এটা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। আর এই কারসাজির সাথে দুষ্টু বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির উদ্যোক্তাদের যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি বলে মনে করেন তারা।

উল্লেখ, হামিদ ফেব্রিকস লিমিটেড ফিক্সড প্রাইস আইপিওর মাধ্যমে ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে আসে। কোম্পানিটি আইপিওতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ার ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৫ টাকা দামে বিক্রি করে। পুঁজিবাজারে আসার আগের বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দেখিয়েছিল ৫ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু আইপিওর পর আর কোনো বছরেই কোম্পানিটির ইপিএস ৫ টাকার আশেপাশে যেতে পারেনি। বরং তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সর্বশেষ বছরের হিসাবে একটি লোকসানি কোম্পানি ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পর এর শেয়ারের দামে এমন উল্লম্ফন দেশের পুঁজিবাজারে নৈরাজ্যের আভাস দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হামিদ ফেব্রিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকক আব্দুল্লাহ আল মাহিনকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তিনি তাতেও রেসপন্স করেননি।

পরে কোম্পানি সব মিজানুর রহমানকে ফোন দিয়ে তাদের কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে, পরদিন সকালে অফিস আওয়ারে ফোন দেওয়ার কথা বলেন। আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।