ধনীদের সম্পদ কর বাড়ছে

0
208

আগামী অর্থবছরে (২০২১-২২) ব্যক্তি শ্রেণীর আয়কর কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়ছে সম্পদশালীদের সম্পদের উপর সম্পদ কর (সারচার্জ)। এ জন্য ন্যূনতম সারচার্জ বাতিল করে স্ল্যাব পুনর্গঠন করা প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে এই প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুন) তিনি জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ প্রস্তাব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যক্ষ করের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো। আর্থিক অসমতা কমানোর জন্য সম্পদশালীদেও সম্পদেও উপর আয়করের পাশাপাশি সারচার্জ বা সম্পদ কর আরোপের বিধান রয়েছে। সারচর্জ আহরণ এবং প্রয়োগ সহজ করতে এক্ষেত্রে বিদ্যমান সতটি ধাপের পরিবর্তে পাঁচটি ধাপের প্রস্তাব করছি। এছাড়া আয় না থাকলে সম্পদের উপর সারচার্জ পরিশোধে বিধান বিলোপ করা ও ন্যূণতম সারচার্জ বিলুপ্তির প্রস্তাব করছি।

সংসদে উপস্থাপিত অর্থ আইন, ২০২১ অনুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পদ কর বা সারচার্জের স্তর ৫টিতে নামিয়ে আনার পাশাপশি ন্যূনতম সম্পদ কর প্রথা বাতিল করা প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের সম্পদ কর দিতে হবে না। নীট সম্পদের পরািমণ ৩ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বা নিজ নামে একের অধিক মোটর গাড়ি বা কোনো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট আট হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের গৃহ-সম্পত্তির মালিকের আয়করের ওপর ১০ শতাংশ সারচর্জ দিতে হবে। এছাড়া ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদশালীদের আয়করের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।

বর্তমানে সারচার্জের ন্যূনতম স্তর সাতটি ধাপ রয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নিট সম্পদের মূল্যমান ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে সারচার্জ দিতে হয় না। তবে সম্পদের মূল্যমান ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা হলে বা একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে বা যে কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮ হাজার বর্গফুটের বেশি গৃহসম্পত্তি থাকলে সে ব্যাক্তির আয়করের উপর ১০ শতাংশ বা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা সম্পদ কর দিতে হয়। সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বা ৪ হাজার টাকা, ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং ২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে সম্পদের দশমিক ১ শতাংশ অথবা আয়করের ৩০ শতাংশের বেশি যেটি হয় সেই হিসাবে সম্পদ কর দিতে হয়।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দশ কোটি টাকার সম্পদের মালিকদের আয়করের উপর ১০ শতাংশ কিংবা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা সরকারকে দিলেই হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট পাশ হলে আর ন্যূনতম ৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের সুযোগ থাকবে না। তখন অবশ্যই আয়করের উপর ১০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে। এতে করে সারচার্জের হার বাড়বে।

প্রসঙ্গত, সম্পদ কর বা সারচার্জ হচ্ছে এক ধরনের মাশুল, যা ব্যক্তির সম্পদের দলিলমূল্যের ওপর আদায় করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান শাসনামলে সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালু করা হয়। সেটি স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল। ১৯৮৮ সালে সরকার স্থায়ীভাবে সম্পদ কর আদায় করতে অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে ১৬এ ধারা যুক্ত করে। বর্তমানে এ ধারা অনুযায়ী সম্পদ কর আদায় করা হচ্ছে। পরে নানামুখী চাপে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সেটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে তা পুনরায় সম্পদ কর চালু করা হয়।