ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পর আটক থেকে মুক্তি পেয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এ ঘোষণা দেন।
সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘লড়াই সবে শুরু হয়েছে।’ জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাসও বলেন, তাঁরা পিছু হটবেন না। একই সঙ্গে জনগণকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একই ব্যক্তির একাধিক নাম ও জাল এন্ট্রি বাদ দেওয়াই সংশোধনের উদ্দেশ্য।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও দলটির আরও দুই নেতা আটক হন। রোববার তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারী সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে হাজারো মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন বন্ধ, ২০০টির বেশি ট্রেন চলাচল স্থগিত এবং কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে রোববার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে আটক না করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাউকে আটক করা যাবে। যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতেও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরও দিল্লিতে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
গত মে মাসে যাত্রা শুরু করা সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে আন্দোলন, ব্যাপক ধরপাকড় এবং বিরোধীদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে সিজেপির ঘোষিত দেশজুড়ে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.