এনএভি’র চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে যেসব ফান্ডের ইউনিট

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট তাদের প্রকৃত সম্পদমূল্য বা নিট অ্যাসেট ভ্যালুর (এনএভি) চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে অন্ততঃ পাঁচটি ফান্ডের ইউনিট তাদের ইউনিট প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি’র চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডে।

তথ্য অনুযায়ী, রোববার লেনদেন শেষে তথা আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) লেনদেনের শুরুর আগে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি এনএভি ছিল ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। অথচ বাজারে একটি ইউনিট বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা ফান্ডটির প্রকৃত মূল্যের প্রায় ৩.৭ গুণ দাম দিচ্ছেন, যা এনএভির চেয়ে প্রায় ২৬৫ শতাংশ বেশি। পাঁচটি ফান্ডের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি।

আজ এনএভি-বাজার মূল্যের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচুয়াল ফান্ড। এর এনএভি ৭ টাকা ৯৫ পয়সা, আর বাজারমূল্য ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যবধান প্রায় ১২০ শতাংশ। একই বাজারমূল্য ১৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটও। তবে এর এনএভি তুলনামূলক বেশি, ৮ টাকা ৮৯ পয়সা। ফলে বাজারমূল্য এনএভির চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি।

তুলনামূলক কম ব্যবধান দেখা গেছে অন্য দুটি ফান্ডে। রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ১০ টাকা ৪৩ পয়সা, বাজারমূল্য ১২ টাকা ৩০ পয়সা। ব্যবধান প্রায় ১৮ শতাংশ। আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি ৮ টাকা ৮৯ পয়সা, বাজারমূল্য ১০ টাকা। ব্যবধান সবচেয়ে কম, প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ।

বাজারমূল্য ও এনএভির পার্থক্যের অর্থ কী

মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি হলো ফান্ডের মোট সম্পদ থেকে দায় বাদ দিয়ে প্রতি ইউনিটের ভাগে যে মূল্য দাঁড়ায়। বাজারে ইউনিটের দাম নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের ওপর। বাজারমূল্য এনএভির চেয়ে বেশি হলে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের সম্পদের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ইউনিট কিনছেন। বাজার সুস্থ আচরণ করলে বা কোনো কারসাজি না হলে সাধারণত এমনটি দেখা যায় না। এনএভির চেয়ে বেশি দামে ইউনিট কেনা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ফান্ডের অবসায়ন হলে ইউনিটধারী কেবল এনএভির সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন, তা তিনি যে দামেই কিনে থাকুন না কেন।

এদিকে, বাজারের এই অস্বাভাবিক আচরণের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার সময় তার এনএভি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সংশ্লিষ্ট ফান্ডের প্রতি ইউনিটের নিট সম্পদমূল্য (NAV per Unit)-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে। একটি মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের বাজারমূল্য ও তার অন্তর্নিহিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ফান্ডের অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্য তথা NAV একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। উল্লেখ্য যে, কোন মিউচুয়াল ফান্ডকে নগদায়ন (Liquidation) করা হলে, ইউনিটহোল্ডার কর্তৃক উক্ত ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের তুলনায় অধিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.