আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে পৃথিবী। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসায় বুধবার (১২ আগস্ট) ঘটবে এই মহাজাগতিক ঘটনা। প্রায় দুই বছর পর আবারও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পৃথিবীর মানুষ। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে এমন বিরল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।
এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালসহ উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও গ্রহণটি দৃশ্যমান হবে। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
বিরল এই দৃশ্য দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে জড়ো হয়েছেন। তবে গ্রহণের সময় আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। এর স্থায়িত্ব হবে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে, আর পূর্ণগ্রাস পর্যায় স্থায়ী হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি সূর্যের চাকতিকে ঢেকে ফেলে। পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় সমান আকারের দেখানোর কারণেই এমন পূর্ণগ্রাস গ্রহণ সম্ভব হয়।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। তবে এর মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল। নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে এ ধরনের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ অনেক দীর্ঘ সময় পরপর আসে। ফলে এবারের গ্রহণকে ঘিরে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও আকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.