দীর্ঘ খরা কাটিয়ে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। বাজারে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। তবে নতুন এই বাজারে আগের মতোই চলছে দূর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর দাপট। কারণ ছাড়াই অনেক লোকসানি ও বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এদেরই একটি হচ্ছে তালিকাভুক্তির পর থেকেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড।
গত এক্স মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে প্রায় আড়াইগুণ হয়েছে। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ১০ মে ডিএসইতে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম ছিল ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর বাজারে ১৮ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। তারমধ্যে ১৭ দিনই বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ডিএসইতে ৪ টাকা ৫০ পয়সা (৫.৭০%) বেড়ে ৮৩ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠেছে। এক মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ১৪৬ শতাংশ।
সোনারগাঁও টেক্সটাইল ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার। এই শেয়ারের ৪৪.৪৫ শতাংশ ধারণ করছে কোম্পানির উদ্যোক্তারা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
শুরু থেকেই হোঁচট খেয়ে খেয়ে চলছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। ডিএসইর তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটি গত ১০ বছরে মাত্র তিনবার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ ও ২০২২ সালের জন্য ১ শতাংশ এবং ২০১৯ সালের জন্য ৩ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অন্যদিকে গত ৫ বছরের মধ্যে ৩ বছরই কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৮০ পয়সা, ২২-২৩ বছরে ২৩ পয়সা এবং ২১ সালে লোকসান দিয়েছে ১৩ টাকা ৩৫ পয়সা। বাকী ২ বছরের মধ্যে ২৪ সালে ২৭ পয়সা এবং ২২ সালে ৩৩ পয়সা আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকের মধ্যে দুটিতে লোকসান গুণেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। তিন প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৯ পয়সা।
এদিকে কোম্পানিটির নীরিক্ষকের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে আর্থিক নানা অসঙ্গতি ও দূর্বলতা। গত ৩০ জুন, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাবছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নিরীক্ষক জে. কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের একটি নোটে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির দাবি অনুসারে বছর শেষে ৫৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার পণ্য এবং ৬৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পিপিই থাকার কথা। কিন্তু নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এর কোনো প্রমাণ পায় নি।
অন্যদিকে, সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের ভাষ্য অনুসারে, আলোচিত বছরে কোম্পানিটি ১৪ কোটি ৬ লাখ টাকার কাঁচামাল কিনেছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব পণ্যের বড় অংশই নগদ টাকায় কেনা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ না থাকায় নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পণ্য কেনার বিষয়টি ভেরিফাই করতে পারেনি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.