দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জে নজরদারি বাড়ানো, অননুমোদিত ড্রোন প্রতিরোধ, প্রোটোকল ব্যবস্থায় কড়াকড়ি এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)–এর আসন্ন মূল্যায়ন সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জের পাশের গাড়ি পার্কিং এলাকায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ‘আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেম’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির নিচের অংশে লুকানো সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহি বাড়াতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীনে একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালুর রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দর এলাকায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো ঠেকাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ প্রযুক্তি কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
যাত্রীর অনুপস্থিতিতে ট্রানজিট বা নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো লাগেজ খুলতে হলে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টকে তাতে বিশেষ সিল বা ট্যাগযুক্ত স্টিকার লাগাতে হবে। এতে লাগেজ খোলা ও পুনরায় ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।
ভিআইপি বা সিআইপি পরিচয়ে ভ্রমণ করলেও ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি মানতে হবে। ভিআইপি ইমিগ্রেশনে অননুমোদিত প্রোটোকল বন্ধে বিদেশি দূতাবাসগুলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) সব সংস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গোর ওপর আরোপিত ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ মর্যাদা প্রত্যাহারে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের সমুদ্রবক্ষে স্থাপিত প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের তার ও যন্ত্রাংশ চুরি ঠেকাতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল জানান, চিহ্নিত নিরাপত্তা ঘাটতি দূর করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইকাওয়ের মূল্যায়নের প্রস্তুতিও আরও সুসংহত হবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.