প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কারিকুলামভিত্তিক লার্নিং টয় বা শিক্ষণীয় খেলনা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং শিশুদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘মেধা ও সৃজন উৎসব-২০২৬’-এর সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিকক্ষে খেলতে খেলতে শিখতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শ্রেণিকক্ষগুলোতে খেলাধুলার উপযোগী জায়গা রাখার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের মতো কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শিক্ষণীয় খেলনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খেলনার মাধ্যমে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের আরও সহজ ও আনন্দময় উপায়ে পাঠদান করতে পারবেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি বিবেচনায় খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্ট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গান, কবিতা, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে।
গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজন আরও বিস্তৃত করা হবে। ভবিষ্যতে রোবোটিক্স, প্রোগ্রামিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের হাতেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। তোমাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ নির্মাণের সক্ষমতা যেন তোমাদের হাতে থাকে, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সামনে তোমাদের জন্য অনেক সুযোগ অপেক্ষা করছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.