রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে পাহাড়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই সংগঠন- সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে দফায় দফায় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকায় নতুন করে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কালাবুনিয়া এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সশস্ত্র ক্যাডারদের মধ্যে এই গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা পৌঁছাতে পারেননি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে গোলাগুলির এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এই মুহূর্তে কিছুটা দুরূহ হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাস ধরেই সাজেক এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের সংঘর্ষে একটি শিশুসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয়রা জানায়, একসময় সাজেক, সাজেকের পানি পয়েন্ট ও মাচালংসহ বিস্তীর্ণ পর্যটন অঞ্চল ইউপিডিএফের একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তী সময়ে জেএসএস ওই এলাকা দখল করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করলে ইউপিডিএফ তা পুনরুদ্ধারে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করে। অভিযোগ রয়েছে, সাজেক পর্যটন কেন্দ্র ও বাঘাইহাটের উজোবাজার এলাকার সাধারণ গ্রামবাসীদের জিম্মি করে জেএসএস সদস্যদের এলাকাছাড়া করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চাপ প্রয়োগের কৌশল নেয় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে সাজেক থেকে জেএসএসের সদস্যদের অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা। সর্বশেষ আজ শনিবার পর্যন্ত টানা ১০ দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যেই গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে আগামীকাল রোববার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ সাময়িকভাবে শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
একদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা লাগাতার সড়ক অবরোধ, অন্যদিকে হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই সশস্ত্র গোলাগুলি-সব মিলিয়ে পুরো সাজেক এলাকায় এক গভীর অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.