প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় ধস, চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পতনে নাসডাক

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে বড় দরপতন হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটির প্রযুক্তিনির্ভর সূচক নাসডাক কম্পোজিট প্রায় তিন শতাংশ কমেছে। গত জুনের পর এক দিনে সূচকটির এটিই সবচেয়ে বড় পতন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যয় এবং মুনাফার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে তুলনামূলক নিরাপদ খাতে ঝুঁকেছেন।

শুক্রবার লেনদেন শেষে নাসডাক কম্পোজিট ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ২৫ হাজার ৪৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকটি সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৮ শতাংশ নিচে নেমে গেছে। একই দিন ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৫৭২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ৭৭০ দশমিক ৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ; দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৮০ দশমিক ০৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের শেষভাগে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়। মাসের শেষ দিনে মুনাফা তুলে নেওয়া এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ে।

প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ইন্টেল। চলতি প্রান্তিকের দুর্বল ব্যবসায়িক পূর্বাভাস দেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বাজারে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে তাদের ব্যবসায়। এ ছাড়া অ্যামাজনের শেয়ার ১ শতাংশের বেশি কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ও রাজস্ব বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একই সময়ে কোম্পানিটির নেতিবাচক অবাধ নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে।

চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে। অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) দর প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ার কমেছে ৪ শতাংশ এবং ব্রডকমের ৫ শতাংশ। এ ছাড়া স্যানডিস্কের দর কমেছে ১৩ শতাংশ। কোম্পানিটির প্রথম অর্থবছরের প্রান্তিকের ফলাফল প্রত্যাশা ছাড়ালেও এ পতন ঠেকানো যায়নি।

অন্যদিকে প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে ভোগ্যপণ্য ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন অনেকে। ওয়ালমার্ট ও কোকা-কোলার শেয়ার ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারক মার্ক ও অ্যামজেনের শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ফলে প্রযুক্তি খাতে বড় পতন হলেও ডাও জোন্সের লোকসান তুলনামূলক সীমিত ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুফল কতটা এবং এসব প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন বাড়ছে। গ্লোবাল্টের কিথ বুকানান বলেন, বাজারের মনোভাব বদলাচ্ছে। গত বছর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বেশি ছিল, কিন্তু এখন কোম্পানিগুলোর ব্যয় ও বিনিয়োগ বাস্তবে কীভাবে আয় তৈরি করবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের ঋণ বিনিয়োগযোগ্য মানের রেটিং নাও পেতে পারে বলে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর আগে অ্যানথ্রপিকের শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শেয়ারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

অক্টোবরজুড়েও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে অস্থিরতা ছিল। মাস শেষে নাসডাক কমেছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের মার্চের পর সূচকটির সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ডাও জোন্স বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান শেভরন ও এক্সনমোবিলের শেয়ার শুক্রবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে দুই কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার পর তাদের শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.