জিপিএইচ ইস্পাতের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য স্পনসর ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে। একই সভায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের পাঁচ বছরের পুনর্নিয়োগ এবং দুজন স্বতন্ত্র পরিচালকের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ অনুমোদিত হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় হাইব্রিড প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর কবির। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়।

সভায় রেজিনা পারভীনকে তিন বছরের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ এবং শফিউল আলম খান চৌধুরীকে একই মেয়াদে পুনর্নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল, পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, মোঃ আব্দুল আহাদ ও মোঃ আজিজুল হক। এ ছাড়া পরিচালক সাদমান সাইকা সেফা, সালেহীন মুশফিক সাদাফ ও সায়হাম সাদিক পিয়াল, গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোক্তার হোসেন তালুকদার, গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এইচএম আশরাফুজ্জামান এবং কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, করপোরেট সুশাসন পরিপালন নিরীক্ষক, স্বতন্ত্র যাচাইকারী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন। সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানি সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন।

স্বাগত বক্তব্যে চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর কবির বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে মানসম্পন্ন ইস্পাত পণ্যের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি, অর্থায়ন ব্যয়ের স্থিতিশীলতা এবং নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কার্যক্রমের গতি ফিরলে ইস্পাত শিল্পেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবসম্পদ ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে জিপিএইচ ইস্পাত।

গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ, চলতি মূলধনের সংকট এবং প্রতিকূল ব্যাংকিং পরিস্থিতির কারণে কোম্পানিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মূলধন সংগ্রহের চাপও ছিল।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো এবং আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন কমে যাওয়ায় নির্মাণ খাতের কার্যক্রম মন্থর হয়েছে। ইস্পাত শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের দাম এবং মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত ও অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করেছে।

এ পরিস্থিতিতেও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিক্রয় কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বজায় রেখে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে জিপিএইচ ইস্পাত। একই সঙ্গে পণ্যের মান ও গ্রাহকদের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে কারখানার উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম সম্প্রসারণে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ কাজ করছে। সভায় অংশগ্রহণ ও সমর্থনের জন্য তিনি শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.