‘পারস্য উপসাগরে ঢোকার স্বপ্ন ভুলে যান’, ট্রাম্পকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদোল্লাহি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পারস্য উপসাগর কিংবা ইরানের সমুদ্রসীমায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের সময় শেষ হয়ে এসেছে। যেকোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আবদোল্লাহি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল স্বপ্নই দেখতে পারেন যে তাঁদের বাহিনী আবার পারস্য উপসাগরে ঢুকবে। এই ইচ্ছা তাঁদের চিরতরে কবরেই নিয়ে যেতে হবে।”

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘এপিক ফিউরি’র মতো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আগের যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে ইরানের কাছাকাছি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তেহরান প্রশ্ন তুলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে মাইনের আঘাতের খবরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের জন্য অপমানজনক বলে বর্ণনা করেছে।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের রিয়াদ ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি এবং এর জবাবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা এবং হেবরনে এক সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে বিধিনিষেধও কঠোর করেছে ইসরায়েল।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বেড়েছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে সমুদ্রতলের যোগাযোগ ও ইন্টারনেট কেবলও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। দেশটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলে ৩১টি প্রদেশ থেকে একযোগে হামলা চালানোর জন্য ‘ডেড হ্যান্ড’ কৌশল সক্রিয় রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাত বন্ধে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

ইরানের সংবাদমাধ্যম নূর নিউজের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড় না দেওয়া এবং হামলার দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরানও জানিয়েছে, বোমা হামলার মুখে কোনো আলোচনা বা অসম চুক্তি মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নয়।

এ অবস্থায় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.