মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বাড়ছে তেলের দাম, চাপে বিশ্ববাজার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম সকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের লেনদেনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ২৪ সেন্টে ওঠে।

ব্রেন্টের দাম চলতি সপ্তাহে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। এতে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্রেন্টের দাম গত মে মাসের শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম সপ্তাহজুড়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। ফলে এই তেলের ক্ষেত্রে টানা দুই সপ্তাহের মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছেদ পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার বিষয়ে ইরান মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে তেহরান।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে চারটি জাহাজ হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে আরও তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পর দেশটির বাহিনী অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর কোম্পানিটি ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং আরামকোর কয়েকটি কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির দামের ওপরও পড়তে পারে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.