যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরল পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলো অভিন্ন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এতে ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় ইয়েমেনের হুথি ও ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকির কারণে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে সব মার্কিন নাগরিককে অবহিত করা হয়েছে।
১২ দেশকে দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই সংঘাত নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগেই জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখতে হবে। ইরান এবং ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে অন্যান্য মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অথবা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান- ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থায়ও হামলা চালাতে পারে।
এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি ‘জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে, কারণ ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে সৌদির বেসামরিক বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা করেছে। এতে কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা মারাত্মক বিঘ্নিত হয়।
কাতারে মার্কিন দূতাবাস রোববার তাদের নাগরিকদেরকে দেশটির সরকারের সতর্কবার্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমে নজর রাখতে, বিক্ষোভ ও বড় সমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
কাতার এয়ারওয়েজ এক ঘোষণায় জানায়, তারা সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে যাতায়াতকারী ফ্লাইটগুলো ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করছে এবং জেদ্দায় দৈনিক ফ্লাইট সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.