নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু আহুদিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫), কাশেম (৩৫) ও জাহান উদ্দিন মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত বাসচালক মো. সোহেল রানা রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্যেও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও প্রাণ হারিয়েছেন।
নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর আহত নয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস। তাঁরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.