রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগে বড় ধরনের অগ্রগতি হচ্ছে। তবে জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কারণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চান না। তাঁর ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা আলোচনার সম্ভাবনা নষ্ট করে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আনা নতুন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন।
এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকেও সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন ও দেশটির মিত্রদের বিস্মিত করেছে। এতে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে, যার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টিও রয়েছে। তিনি একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেও কোন দলিলের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ইরানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার ইরানকে সহায়তা করার সুযোগ থাকলেও দেশটি বর্তমানে খুব সামান্য সহায়তা করছে। তিনি এ পরিস্থিতি বজায় রাখতে চান বলেও মন্তব্য করেন।
এরপর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.