১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহায়তা চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে। ইতিমধ্যে বিদেশি ক্রেতারা ভারত ও মিসরের মতো দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। যৌথভাবে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
চিঠিতে সংগঠন দুটির সভাপতি বলেন, গত বছর স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধ, সুতা আমদানিতে সেফগার্ড ডিউটি আরোপের উদ্যোগ এবং ২০২৬–২৯ সালের আমদানি নীতিতে নিট কাপড় আমদানি নিষিদ্ধ করে পরে তা প্রত্যাহার—এ ধরনের ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাঁদের ভাষ্য, নীতিগত অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে ক্রেতারা ভারত ও মিসরে ক্রয়াদেশ স্থানান্তর করছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ অভিযোগ করেছে, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর প্রতিনিধিরা ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সংগঠন দুটির দাবি, সভায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও পরবর্তী সময়ে সভার কার্যবিবরণীতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির অনুমতির বিষয়টি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির অনুমতি দিয়ে আদেশ জারি করে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের অনুরোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৩ সেপ্টেম্বর সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে এনবিআরকে চিঠি দেয়। তবে এনবিআর আগের আদেশ প্রত্যাহার করেনি। বরং গত বুধবার সংস্থাটি একই ধরনের আরেকটি আদেশ জারি করে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠন দুটি।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অভিযোগ, এনবিআরের আদেশের পর স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতি পাউন্ড সুতার দাম ৩০ থেকে ৫০ সেন্ট বাড়িয়েছে। অন্যদিকে আমদানি করা সুতার ক্ষেত্রে শুল্ক-কর পরিশোধ অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় রপ্তানিকারকদের চলতি মূলধন আটকে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে নিট পোশাকশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংগঠন দুটির নেতারা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত তারল্যসংকট সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিঠিতে এনবিআরের জারি করা আদেশ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিরা।
তাঁরা আরও প্রস্তাব করেছেন, আদেশ প্রত্যাহারের পর বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সুতা আমদানিসংক্রান্ত একটি টেকসই নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা যেতে পারে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.