নিজেদের মিত্র হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গত ১২ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানকে টেলিফোন করে এ প্রস্তাব দেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যে এ খবর প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নিজেই।
টেলিগ্রাম পোস্টে তিনি বলেন, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরান মনে করে, রাজনৈতিক সমাধানকে উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। উভয়পক্ষ নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য রাজনৈতিকভাবে সমাধানে রাজি থাকলে সংলাপ শুরুর জন্য ইরান সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমগুলোও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপের খবর প্রকাশ করেছে। তবে সৈয়দ আব্বাস আরাগচি দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন—এমন তথ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, শিয়া-সুন্নি বিরোধের কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কে ঐতিহাসিক টানাপোড়েন রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমানে সংঘাতে জড়িত হুথি গোষ্ঠীর সদস্যরা শিয়া মুসলিম। গোষ্ঠীটি ইরানের সমর্থনপুষ্ট এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের সহযোগী শক্তি হিসেবে পরিচিত।
সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বাহিনীর সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর হুথি যোদ্ধারা উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তাঁকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে ওই বছর থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল হুথিরা। এরপর পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় সৌদি আরবের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরের উপকূল এবং লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি হুথিরা গত মাসে দখল করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সর্বশেষ গত শনি, রোব ও সোমবার টানা তিন দিন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি যোদ্ধারা। এসব হামলায় মোট ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.