ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মাঝে দুইজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। শনিবারে (১০ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। হুতি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করে বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হুতিদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি বাহিনী। হুতিদের দাবি, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিস্থিতির কারণে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও বেড়েছে।
এদিকে, রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কংগ্রেস এবং চলতি মাসের শেষ দিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্ষিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে হামলার খবরের পর এসব আন্তর্জাতিক আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.