আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রামে চার্টার্ড সেক্রেটারীদের পেশাগত চর্চার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিআইএম অডিটোরিয়ামে “বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারীগণের পেশাগত চর্চার চ্যালেঞ্জসমূহ” শীর্ষক একটি সিপিডি প্রোগ্রামের আয়োজন করে। এ প্রোগ্রামে চার্টার্ড সেক্রেটারী, করপোরেট নেতৃবৃন্দ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি এবং পেশাজীবীগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রোগ্রামটিতে চার্টার্ড সেক্রেটারী পেশার ক্রমবিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর কমিশনার হোসেন সাদাত এফসিএস। বক্তব্যে তিনি চার্টার্ড সেক্রেটারীদের পেশাগত মূল্য ও অবদান বৃদ্ধির জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন: (ক) জ্ঞানচর্চা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে সময়োপযোগী থাকা, (খ) সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও ব্যবসায়িক অংশীজনদের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং (গ) দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা।

আইসিএসবি-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এফসিএসের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রোগ্রামটি শুরু হয়। তিনি চার্টার্ড সেক্রেটারীদের পেশাগত উন্নয়ন, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, উদীয়মান পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ব্যক্তিগত পেশাগত পরিচিতি ও পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এবং পরিবর্তনশীল করপোরেট পরিবেশে উৎকর্ষ অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আইসিএসবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও সিপিডি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্যে তিনি চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার বিকাশে ধারাবাহিক পেশাগত শিক্ষা, নৈতিকতা অনুসরণ এবং পেশাগত উৎকর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় চাকরি ও পেশাগত চর্চায় চার্টার্ড সেক্রেটারীদের প্রয়োজনীয় গুণাবলি, পারিশ্রমিক কাঠামো, পেশাগত চর্চার পরিধি এবং পেশাজীবীদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া, পেশাগত চর্চা-সংক্রান্ত আইসিএসবি-এর বিধিবিধান পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা, নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখা এবং অন্যান্য দেশের পেশাগত চর্চা থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তিনি বাংলাদেশে চার্টার্ড সেক্রেটারীদের পেশাগত চর্চার প্রধান চ্যালেঞ্জ, ব্যবসার আন্তর্জাতিকীকরণের প্রভাব, পেশাগত চর্চার নতুন ক্ষেত্র এবং বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি, ক্লায়েন্টদের জন্য ভেলু এডিশনের গুরুত্ব তুলে ধরে পেশাটিকে শক্তিশালী করা এবং করপোরেট খাতে এর অবদান সম্প্রসারণে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস এ রশিদ এন্ড এসোসিয়েটস-এর প্র্যাকটিসিং চার্টার্ড সেক্রেটারী এস. আবদুর রশীদ এফসিএস। তিনি তার উপস্থাপনায় এ পেশার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় চার্টার্ড সেক্রেটারীদের দুটি প্রধান পেশাগত পথঃ পূর্ণকালীন চাকরি এবং প্র্যাকটিস—বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। পেশাগত দক্ষতা, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান পরিপালন, প্রতিযোগিতা, ক্লায়েন্ট সংগ্রহ, নৈতিক স্বাধীনতা, পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া সততা, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন, গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বাধীন পেশাগত বিচারবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন মনিরুল আলম এন্ড এসোসিয়েটস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রধান পরামর্শক মো. মনিরুল আলম এফসিএস এবং জেসমিন এন্ড এসোসিয়েটস-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার মিজ জেসমিন আক্তার এফসিএস। তারা তথ্যবহুল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য উপস্থাপককে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং করপোরেট সুশাসন শক্তিশালীকরণে পেশাজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

প্রোগ্রামে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক প্রশ্নোত্তর পর্বে করপোরেট খাতে চার্টার্ড সেক্রেটারীদের পরিচিতি, প্রাসঙ্গিকতা ও পেশাগত অবদান আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীগণ মতবিনিময় করেন।

মিজ মুন্সি ফাহিমা রহমান এফসিএস প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। পরিশেষে, মিজ ইসরাত জাহান রিমি এফসিএস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং প্রোগ্রামটি সফল করার জন্য সকল অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.