যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, ডাও জোন্স বাড়ল ৪২৩ পয়েন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বড় উত্থান হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে দেশটির প্রধান তিনটি শেয়ার সূচকই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। এদিন ডাও জোন্স সূচক ৪২৩ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে।

লেনদেন শেষে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৪২৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৫১ হাজার ৬৫৪ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৮১১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ২৭ হাজার ৩৬৬ দশমিক ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানানোর পর পুঁজিবাজারে উত্থান আরও জোরালো হয়। তবে এ ঘোষণার পর তেলের দাম সামান্য কমেছে। লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলারের ওপরে ছিল।

শুক্রবার প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো আল্টো নেটওয়ার্কসের শেয়ার ৫ শতাংশ বেড়েছে। ক্রাউডস্ট্রাইক ও পালান্টির টেকনোলজিসের শেয়ার বেড়েছে যথাক্রমে ৪ ও ৫ শতাংশ। মাইক্রোসফটের শেয়ার ২ শতাংশ এবং অ্যামাজনের শেয়ার ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, স্পেসএক্সের দেশজুড়ে ব্যবহারের উপযোগী বেতার তরঙ্গসম্পদ কেনার চুক্তির ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কায় এটিঅ্যান্ডটি, ভেরাইজন ও টি-মোবাইলের শেয়ারের দর কমেছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মার্ক ও গিলিয়েড সায়েন্সেসের শেয়ার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ক্যানসারের টিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগের খবরে মডার্নার শেয়ারেও উত্থান দেখা যায়।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে দরপতনের কারণে বৃহস্পতিবার নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে শুক্রবারের উত্থানে সপ্তাহজুড়ে তিনটি প্রধান সূচকই লাভের মুখ দেখেছে।

পুরো সপ্তাহে ডাও জোন্স সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং নাসডাক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেলের দামের ওঠানামাও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় ব্যাংকসহ জনসন অ্যান্ড জনসন ও ইউনাইটেডহেলথের মতো প্রতিষ্ঠানের আয়-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব প্রতিবেদন পুঁজিবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: যুক্তরাষ্ট্র, পুঁজিবাজার, ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক, প্রযুক্তি খাত, স্পেসএক্স, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ডিজেল, তেলের দাম, বিনিয়োগকারী

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.