বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত এবং সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপ আনছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। আর চলতি অক্টোবর মাসেই অ্যাপটি চালু হতে পারে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুল মোতালেব। সিডিবিএল ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার নাফিজ আল তারিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিএলের পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিডিবিএলের পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিসিবিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ. স. ম. খায়েরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সিডিবিএলের এমডি জানান, নতুন মোবাইল অ্যাপটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালুর চেষ্টা চলছে। অ্যাপের মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী তার বিও হিসাবের বিস্তারিত তথ্য ও পোর্টফোলিও দেখতে পারবেন। পাশাপাশি হিসাবের বিভিন্ন লেনদেন ও নোটিফিকেশনও পাওয়া যাবে। তাতে
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীর হিসাবে ডেবিট বা অন্য কোনো লেনদেন হলে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য জানানো হয়। একই ধরনের নোটিফিকেশন অ্যাপেও পাওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই জানতে পারবেন। বলা যায়, তাদের পোর্টফোলিও সব সময় নিজেদের পকেটেই থাকবে।
বিনিয়োগকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির আধুনিকায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মো. আব্দুল মোতালেব। এর অংশ হিসেবে সিডিবিএলের পুরোনো হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দ্রুত, নিরাপদ ও শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সিডিবিএল। এ জন্য ব্রোকার ও ডিপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিও হিসাবের মোবাইল নম্বর, ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। তথ্য সঠিক থাকলে লভ্যাংশ ও অন্যান্য সুবিধা প্রকৃত বিনিয়োগকারীর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে জালিয়াতির সুযোগও কমবে।
সিডিবিএলের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার বিও হিসাব রয়েছে। প্রায় ৫৬০টি ডিপির মাধ্যমে এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিও হিসাবের বিপরীতে একজন বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যিনি নিজের সঞ্চয় নিয়ে পুঁজিবাজারে এসেছেন। তাই তাঁদের সম্পদ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিডিবিএলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এ ছাড়া সিডিবিএলের একটি ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর) সাইট স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু হতে পারে।
সেমিনারে বিনিয়োগকারীদের অনলাইন প্রতারণা ও গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সিডিবিএল এমডি। বিনিয়োগের আগে তথ্য যাচাই, ঝুঁকি বোঝা এবং বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.