ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার অভিযোগ

ফ্লাইদুবাইয়ের ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বিমান ছিনতাই ও সেটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের কর্মকর্তারা দুবাইয়ে গেছেন বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে হাম্মামি দাবি করেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। যাত্রীবাহী একটি বিমান ছিনতাই করে সেটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়াই হাম্মামির পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল। এ জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি ও আমিরাতি তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে তেল আবিবগামী একটি বিমান পরিচালনার সময়ও হাম্মামি সেটি ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ রোববার দেশটির মন্ত্রিসভাকে হাম্মামির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই—এমন কয়েকটি দেশে হাম্মামির ভ্রমণের তথ্যও পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল আবিবের পথে কোন কোন বিমান সংস্থা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পর হাম্মামি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মাধ্যমে ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ইসরায়েলি পোর্টাল মাকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটের কেবিন ক্রু সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে কেবিন ক্রুর সদস্যরা এ ঘটনায় কোনো ধরনের যোগসাজশের কথা অস্বীকার করেছেন।

তদন্তকারীদের কাছে হাম্মামি নিজেই বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তাদের সন্দেহ, হাম্মামি কারও নির্দেশনা বা সহযোগিতায় এ পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন। ফলে এ ঘটনায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলট হাম্মামির বিরুদ্ধে। ওই সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে ক্যাপ্টেন স্মিত ও বিমানের যাত্রীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কথিত পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। হাম্মামির হামলায় ক্যাপ্টেন স্মিত গুরুতর আহত হন।

ঘটনাটির পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। এখন হাম্মামির কথিত উদ্দেশ্য, তার পূর্বপরিকল্পনা এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ই তদন্তের প্রধান কেন্দ্রে রয়েছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.