দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি গাজী নজরুলের জামিন মেলেনি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ।

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী গাজী নজরুল ইসলামের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ। এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় ডেকে নেওয়ার পর গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার কোনও প্রমাণ পুলিশ উপস্থাপন করতে পারেনি।

আবেদনে আরও বলা হয়, বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষ পূর্ব থেকেই আত্মীয়। বর্তমানে বাদীর উপস্থিতিতে এবং পারিবারিক পরামর্শে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম ৭৫ বছর বয়সী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন বা এলাকা ত্যাগ করবেন না।

এদিকে জামিন আবেদনের সঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একটি আপসনামা আদালতে দাখিল করেন। আপসনামায় বাদী উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক সন্দেহ থেকে তিনি গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, গাজী নজরুল বা মাকছুদার প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনও আপত্তি নেই বলেও আপসনামায় উল্লেখ করা হয়।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ শুনানিতে বলেন, আপসনামা দেওয়া হলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি আপসযোগ্য নয়। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে, মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার কোনও ঘটনা রয়েছে, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। আপসকারী আব্দুল হামিদ মোড়লকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গ্রেফতার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.