রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির এক কর্মকর্তা আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে তিনি ওই আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। যখন সমঝোতা হয়নি তখন মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদকে হামলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেন।
এদিকে হামলার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা হলেন-ে শাহরিয়া মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না ও অটোরিকশাচালক আসলাম।
এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় রোববার ওই মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাট চালানো হয়। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়ার মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগেও ইসিবি চত্বর এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়া মাহমুদ ও মামলায় ২ নম্বর আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। বৈঠকের ছবি তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে। বৈঠকে বিকাশ কুমার নামে একজন ঠিকাদারকেও শনাক্ত করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সূত্র জানায়, বৈঠকে যাদের ছবি দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রথমে শাহরিয়া মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। হামলকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করেছিল। অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানকার নির্মাণ শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দারা। হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল ও ঘটনার পর যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। অস্ত্রগুলো বৃহত্তর মিরপুরের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরবরাহ করে থাকতে পারে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.